সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় শ্রমিক-কর্মচারীদের আর অপেক্ষার সুযোগ নেই। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের চার দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবি হলোÑডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়া হবে না, এমন স্পষ্ট সরকারি ঘোষণা দিতে হবে। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে-আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা বা হয়রানি না করার নিশ্চয়তা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানকে অপসারণ।
সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে আমরা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রমজানের আগে নিত্যপণ্যের খালাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনকারী ১৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য দুদকে চিঠি দেওয়া হয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় আবারও লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংকট নিরসনের বদলে বন্দর চেয়ারম্যান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছেন এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন। অবিলম্বে তাকে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, নৌ-উপদেষ্টা বৈঠকে বদলি ও মামলা-সংক্রান্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং বাকি দাবিগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের কথা জানান। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা এবং ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে এনসিটি, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
টানা কর্মসূচির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। এ সময় বন্দর ভবনের সামনে ও ভেতরে নানা সেøাগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯১ শতাংশ পরিচালিত হয়। টানা কয়েকদিন বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ওআমদানিকারকদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হারুন, তাসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, ইমাম হোসেন খোকন ও শরীফ হোসেন ভুট্টো।
আমাদের ঠিকানা।

























