, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি খুলনায় ছুরিঘাতকে একজন নিহত ২ জন আহত। Eastern Refinery Limited (ইআরএল)-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শাকিব খানের পরবর্তী সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন;বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নববর্ষ প্রবেশের নববস্ত্র পরিধানদির একটা লক্ষণ। সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেন এডভোকেট হাসনা হেনা। প্রধান মন্ত্রীর সফরের দিন-তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনলাইন-অফলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশের রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা।

  • প্রকাশের সময় : ০১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৪ পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা বিশ্বাস করেন, দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা আবারও ‘নায়ক’ হিসেবেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন স্থানে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা নিয়মিত বৈঠক করছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এরপর হাজারো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী দেশ ছাড়েন; তাদের মধ্যে ছয় শতাধিক বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত আওয়ামী লীগের দলীয় তৎপরতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে এবং দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দলটি।

গার্ডিয়ান লিখেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি সেই রায়কে ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভারতে বসেই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা বৈঠক ও ফোনালাপে সময় দিচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

গার্ডিয়ান আরও জানায়, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক অডিও বক্তব্য প্রকাশের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। তাদের দাবি, বর্তমান নির্বাচন দেশে স্থিতিশীলতা আনবে না এবং শেষ পর্যন্ত জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে।
তবে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গার্ডিয়ান লিখেছে, নির্বাসনে থাকা অনেক নেতা তাদের শাসনামলের ভুল স্বীকার না করলেও কেউ কেউ অনিয়ম ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের কথা মেনে নিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং আওয়ামী লীগ আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসবে।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।

 

জনপ্রিয়

১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি

দেশের রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা।

প্রকাশের সময় : ০১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিউজ ডেস্ক।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা বিশ্বাস করেন, দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা আবারও ‘নায়ক’ হিসেবেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন স্থানে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতারা নিয়মিত বৈঠক করছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এরপর হাজারো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী দেশ ছাড়েন; তাদের মধ্যে ছয় শতাধিক বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত আওয়ামী লীগের দলীয় তৎপরতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে এবং দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দলটি।

গার্ডিয়ান লিখেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি সেই রায়কে ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভারতে বসেই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা বৈঠক ও ফোনালাপে সময় দিচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

গার্ডিয়ান আরও জানায়, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক অডিও বক্তব্য প্রকাশের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। তাদের দাবি, বর্তমান নির্বাচন দেশে স্থিতিশীলতা আনবে না এবং শেষ পর্যন্ত জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে।
তবে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গার্ডিয়ান লিখেছে, নির্বাসনে থাকা অনেক নেতা তাদের শাসনামলের ভুল স্বীকার না করলেও কেউ কেউ অনিয়ম ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের কথা মেনে নিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং আওয়ামী লীগ আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসবে।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।