, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি খুলনায় ছুরিঘাতকে একজন নিহত ২ জন আহত। Eastern Refinery Limited (ইআরএল)-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শাকিব খানের পরবর্তী সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন;বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নববর্ষ প্রবেশের নববস্ত্র পরিধানদির একটা লক্ষণ। সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেন এডভোকেট হাসনা হেনা। প্রধান মন্ত্রীর সফরের দিন-তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনলাইন-অফলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি নিধনে নেমেছে দিল্লি সরকার-মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

  • প্রকাশের সময় : ০১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • ১৯৩ পড়া হয়েছে

আন্তজার্তিক ডেস্ক।

শনিবার ১২ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নামে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি নিধনে নেমেছে দিল্লি সরকার-মুখ্যমন্ত্রী মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের পর, ভারতীয় বাঙালিদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম।তার দাবি, ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও দিল্লিতে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।

সেই মর্মে গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল বীরভূমবাসী ওই শ্রমিকদের পরিবার। এ নিয়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট।
এর আগে বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (অমিত শাহর দপ্তর) কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ, ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থান কী, তাও বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-দিল্লির মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। এমনকি, রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও সমগ্র বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

আগামী ১৬ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। শুনানি হবে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে।

গত ৯ জুলাই, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের অভিযোগ ছিল-বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশ। তিনি জানিয়েছিলেন, সম্প্রতি বীরভূম জেলার মুরারই ও পাইকর থেকে দুটি পরিবারকে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন করা হয়েছে বলে তাদের কাছে পরিবারের তরফে অভিযোগ এসেছে।

তার অভিমত, যদি সত্যিই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ধরা পড়ে, তাদেরও কি এভাবে পুশ-ইন করা যায়? নিয়ম মেনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু ভারতীয় প্রমাণ থাকার পরেও পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিককে বিজেপি শাসিত রাজ্যে আটক করে রাখা হচ্ছে। আমরা আইনের পথে লড়ছি। পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক ভাইবোনদের জন্য আমাদের লড়াই জারি থাকবে। কিন্তু যারা (বিজেপি) সারাক্ষণ দেশপ্রেমের কথা বলেন, তারা কেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সহানুভূতি দেখাচ্ছেন না? এর নেপথ্যে আরও বড় কোনো চক্রান্ত নেই তো।

এ বিষয়ে বীরভূম জেলার মুরারই গ্রাম প্রশাসন (পঞ্চায়েত) প্রধান নিতু রবিদাস জানিয়েছেন, আমাদের এলাকার বাসিন্দাদের আটক করে নাগরিকত্ব প্রমাণের চিঠি চেয়েছিল দিল্লি প্রশাসন। সেসব নথি পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

দুই পরিবার হলো-পাইকর থানার অন্তর্গত সুইটি বিবি (৩৩), কুরবান শেখ (১৫), ইমাম শেখ (৫); এবং মুরারই থানার ধীতোরা গ্রামের দানিস শেখ (২৯), সোনালী বিবি (২৬) ও সাবির শেখ (৫)। এই দুই পরিবার দিল্লিতে বহু বছর ধরে ইট ভাঙার কাজে যুক্ত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের ১৮ জুন দিল্লির কেএন কাটজু থানা এলাকায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর আটক ব্যক্তিরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। দ্রুত তাদের মুক্ত করতে যেন পরিবারের সদস্যরা দিল্লি চলে আসেন।

খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। দিল্লিতে পৌঁছনোর পর থানা থেকে জানানো হয়-যাদের আটক করা হয়েছিল, তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশে পুশ-ইন হয়ে গেছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গের কোন সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে আম আদমি পার্টিকে পরাজিত করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতার অভিযোগ, বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে প্রশাসন বাঙালি নিধনে নেমেছে। বেছে বেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আমােদর ঠিকানা।

জনপ্রিয়

১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি

পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি নিধনে নেমেছে দিল্লি সরকার-মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

প্রকাশের সময় : ০১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

আন্তজার্তিক ডেস্ক।

শনিবার ১২ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নামে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি নিধনে নেমেছে দিল্লি সরকার-মুখ্যমন্ত্রী মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের পর, ভারতীয় বাঙালিদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম।তার দাবি, ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও দিল্লিতে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।

সেই মর্মে গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল বীরভূমবাসী ওই শ্রমিকদের পরিবার। এ নিয়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট।
এর আগে বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (অমিত শাহর দপ্তর) কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ, ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থান কী, তাও বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-দিল্লির মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। এমনকি, রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও সমগ্র বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

আগামী ১৬ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। শুনানি হবে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে।

গত ৯ জুলাই, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের অভিযোগ ছিল-বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশ। তিনি জানিয়েছিলেন, সম্প্রতি বীরভূম জেলার মুরারই ও পাইকর থেকে দুটি পরিবারকে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন করা হয়েছে বলে তাদের কাছে পরিবারের তরফে অভিযোগ এসেছে।

তার অভিমত, যদি সত্যিই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ধরা পড়ে, তাদেরও কি এভাবে পুশ-ইন করা যায়? নিয়ম মেনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু ভারতীয় প্রমাণ থাকার পরেও পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিককে বিজেপি শাসিত রাজ্যে আটক করে রাখা হচ্ছে। আমরা আইনের পথে লড়ছি। পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক ভাইবোনদের জন্য আমাদের লড়াই জারি থাকবে। কিন্তু যারা (বিজেপি) সারাক্ষণ দেশপ্রেমের কথা বলেন, তারা কেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সহানুভূতি দেখাচ্ছেন না? এর নেপথ্যে আরও বড় কোনো চক্রান্ত নেই তো।

এ বিষয়ে বীরভূম জেলার মুরারই গ্রাম প্রশাসন (পঞ্চায়েত) প্রধান নিতু রবিদাস জানিয়েছেন, আমাদের এলাকার বাসিন্দাদের আটক করে নাগরিকত্ব প্রমাণের চিঠি চেয়েছিল দিল্লি প্রশাসন। সেসব নথি পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

দুই পরিবার হলো-পাইকর থানার অন্তর্গত সুইটি বিবি (৩৩), কুরবান শেখ (১৫), ইমাম শেখ (৫); এবং মুরারই থানার ধীতোরা গ্রামের দানিস শেখ (২৯), সোনালী বিবি (২৬) ও সাবির শেখ (৫)। এই দুই পরিবার দিল্লিতে বহু বছর ধরে ইট ভাঙার কাজে যুক্ত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের ১৮ জুন দিল্লির কেএন কাটজু থানা এলাকায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর আটক ব্যক্তিরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। দ্রুত তাদের মুক্ত করতে যেন পরিবারের সদস্যরা দিল্লি চলে আসেন।

খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। দিল্লিতে পৌঁছনোর পর থানা থেকে জানানো হয়-যাদের আটক করা হয়েছিল, তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশে পুশ-ইন হয়ে গেছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গের কোন সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে আম আদমি পার্টিকে পরাজিত করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতার অভিযোগ, বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে প্রশাসন বাঙালি নিধনে নেমেছে। বেছে বেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আমােদর ঠিকানা।