, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিকলে বাঁধা গণমাধ্যমের দিবস পালন।

  • প্রকাশের সময় : ১৬ ঘন্টা আগে
  • ২৯ পড়া হয়েছে

শিকলে বাঁধা গণমাধ্যমের দিবস পাল
“কামাল পারভেজ”
একসময় সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নয় এটাকে নেশা হিসেবে নেওয়া হতো। সাংবাদিকতা পেশায় একসময় ধনীর দুলালরাই আসতো, তার কারণ ছিলো যাদের কোনো পিছু টান ছিলোনা অভাব অনটন ছিলোনা। সাংবাদিকতা পেশাটাকে নেশা হিসেবে নেওয়া হতো বলেই এবং রাষ্ট্রের চতর্থস্তম্ভকে একটা সচ্ছ আয়না হিসেবে দেখা হতো। তা-ই সাংবাদিকতাকে মহান পেশা, জাতির বিবেক ও আলোকিত দর্পণ হিসেবে বলা হয়। একসময় সাধারণ জনগণও খুবই সম্মানের চোখে দেখত, এবং সাংবাদিকদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত আঘাত করতেও ভয় পেত। সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার পূর্বেই যদি জানত সাংবাদিক এসেছে তারাও আতঙ্কে থাকত। কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতি সংবাদ প্রকাশিত হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অফিসিয়াল ব্যবস্হা নেওয়া হতো। অনেকেই চাকুরী হারা হতেন। এরকম আমার করা প্রকাশিত কয়েকটি নিউজে চাকুরী থেকে একেবারেই খালি হাতে বাড়ি চলে গেছেন তার প্রমানও পেয়েছি। এমনকি দুর্নীতি দমন ব্যুরো বর্তমান দুদক কর্মকর্তারা তদন্তে আসছে শুনে অফিসে টেবিলের উপর ফাইলপত্র ওভাবেই ফেলে পালিয়েছে। মন্ত্রীর পর্যন্ত তদবির করেও চাকুরীতে আর ফিরে আসতে পারেনি। এটা আমি বেশিদিন আগের কথা বলছি না ১৯৯৮/১৯৯৯ সালের কথা বলছি। ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকের সাংবাদিকতা মানেই পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। বিশেষ করে ২০০০ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যমের একটা সর্বোচ্চ সম্মানজনক অর্জন ছিলো। ২০০০ সালের পর থেকে লাগামহীন বেলেল্লাপনার মতো পত্রিকা নিবন্ধন পেতে লাগলো আর গণমাধ্যমের শক্তি ও সম্মান তলানিতে যেতে লাগলো। বর্তমানে সারাদেশে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক ইত্যাদি নিবন্ধিত রয়েছে প্রায় ৩২৩৭ টার মতো। ১৯৭৫ সালে সারাদেশে দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সংখ্যা হিসেবে ২৫০ থেকে ২৬০ ছিলো। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন এর আগে দেশে শতাধিক পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশিত হতো, কিন্তু ওইদিন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৪টি পত্রিকা বহাল রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করে দেওয়া হয়। ১৬ জুন বাকশালি কায়েমর মধ্য দিয়ে রচিত হয় “কালো অধ্যায় বা কালো দিন”। তখন থেকেই গণমাধ্যমের কালো দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তারপরও সংবাদপত্রের একটা স্বর্ণযুগ ছিলো। সংবাদপত্রকে ধারক বাহক হিসেবে ধারণ করে রাখতে এবং সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার এবং তার নিজস্ব স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছিলো। সেই প্রেক্ষিতে সারাবিশ্বে উত্থাপিত দাবীর ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইউনেস্কোর সুপারিশে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। তখন থেকেই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রতিবছর ৩ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য ছিলো বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মূল্যায়ন, স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা এবং দায়িত্ব পালনকালে নিহত সাংবাদিকদের স্মরণ করা। এই প্রেক্ষিতে একটু পিছনের দিকে তাকালে দেখতে পাই উল্লেখযোগ্য হলো যে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে সরাসরি জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ করে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। ওইদিন ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি “ঢাকা অবরোধ” তারই প্রেক্ষিতঃ পুলিশের গুলিতে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকসহ অনেকেই আহত হন। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে দৈনিক ইত্তেফাকের আলোকচিত্রী আবদুস সবুর নিহত হয়। আমরা আরও দেখতে পাই ১৯৯২ সালের ২১ জুন বিএনপি সরকারের আমলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢুকে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও বেধড়ক পেটানোর ঘটনা ঘটে। এই হামলায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশে ২১ জুনকে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। মনে করিয়ে দিতে চাই ২০১৩-১৪ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে, যার বেশিরভাগই পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।
আমরা যদি আরও পর্যালোচনা করি এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদেরকে গলাটিপে হত্যা করার মতো কাজটি হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে। বিগত ১৫ বছরে ৬৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠন গুলোর হিসাব মতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমের ৩৩৭৫ জন সাংবাদিক নানাভাবে রোষের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ২১ জনকে হত্যা, ১৫১২ জন আহত, ৪৭৯ জনকে মারধর, ২২২ জনের ওপর হামলা, ৬৬ জন গ্রেফতার, ৭জন গুম, ৪৭৬ জনকে হুমকি, ৮ জনকে নির্যাতন এবং ৪২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ঐদিকে পেশাজীবী সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ডিইউজে ও বিএফইউজের হিসাব অনুযায়ী বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে ৬৫ জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। এখানেই শেষ নয়, চ্যানেল ওয়ান, ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দৈনিক দিনকাল, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা গুলোকে কোনঠাসা করে রাখা হয়। আরও ন্যাক্কারজনক ঘটনা হলো ২০২৪ কোটা আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে পুলিশ এবং ছাত্রলীগসহ অন্যান্য বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাংবাদিক নিহত হন এবং শত শত সাংবাদিক আহত হন।
এক্ষেত্রে ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কয়েকজন আলোচিত সাংবাদিক খুন হওয়ার ঘটনায় সারা বাংলাদেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরে। এসকল সাংবাদিক খুনের বিচার এখনো পায়নি তাদের অনেক স্বজনরা। উল্লেখযোগ্য হলো ফরহাদ খা জানুয়ারী ২৮, ২০১১ দৈনিক জনতা ঢাকা, গোলাম মোস্তফা সরোয়ার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ মাছরাঙ্গা টিভি ঢাকা, মেহেরুন রুনি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ এটিএন বাংলা ঢাকা, অনন্ত বিজয় দাশ মে ১২, ২০১২ মুক্তমনা সিলেট, জামাল উদ্দিন জুন ৫, ২০১২ গ্রামের কাগজ যশোর, জুনায়েদ আহমেদ জুলাই ১০, ২০১২ দৈনিক বিবিয়ানা হবিগঞ্জ, তালহাদ আহমেদ কবিদ অক্টোবর ২৩, ২০১২ দৈনিক নরসিংদীর বাণী, দেলোয়ার হোসেন মার্চ ২৮, ২০১৪ দৈনিক সমাচার নারায়ণগঞ্জ, অভিজিৎ রায় ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৫ মুক্তমনা ঢাকা, ওয়াশিকুর রহমান বাবু মার্চ ৩০, ২০১৫ ইস্টিশন ঢাকা, মশিউর রহমান উৎস ডিসেম্বর ২৪, ২০১৫ দৈনিক যুগের আলো রংপুর, আবদুল হাকিম শিমুল ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৭ সমকাল সিরাজগঞ্জ, সুবর্ণা নদী ২৮ আগস্ট ২০১৮ আনন্দ টিভি পাবনা, ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন ২১ মে, ২০১৯ প্রিয় ডট কম জামালপুর, বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বার্তা বাজার নোয়াখালী, শাহজাদা মিয়া আজাদ ৩১ জুলাই ২০১৯ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম ও রংপুর বেতার রংপুর। ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে সাদিকুল ইসলাম (দ্যা ডেইলি স্টার) যশোরের অভয়নগরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। ২০ মে ২০২০ সালে বগুড়ায় নিজ বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দৈনিক খবরপত্র প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারী স্হানীয় পত্রিকা দৈনিক বার্তা এর বিশেষ প্রতিনিধি শামসুজ্জামান শামস নরসিংদীর শিবপুরে নিজ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়। ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে নিহত হয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি মহিউদ্দিন সরকার নাঈম। ১৫ জুন ২০২৩, জামালপুরের বকশীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হওয়ার পর পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বাংলানিউজ২৪.কম এর প্রতিনিধি গোলাম রাব্বানী নাদিম।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও সহিংসতায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার ঘটনা সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। নিহত সাংবাদিকদের তালিকায় আছেন যারা মেহেদী হাসান (ঢাকা টাইমস) ১৮ জুলাই ২০২৪, গাজীপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত।
শাকিল হোসেন (ভোরের আওয়াজ) ১৮ জুলাই ২০২৪, গাজীপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত। আবু তাহের মুহাম্মদ তুরাব (দৈনিক নয়া দিগন্ত) ১৯ জুলাই ২০২৪, সিলেটে পুলিশি গুলিতে নিহত।তাহিদ জামান প্রিয় (ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক) ২ আগস্ট ২০২৪, নিহত।প্রদীপ কুমার ভৌমিক (দৈনিক খবরপত্র) ৪ আগস্ট ২০২৪, সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষের সময় নিহত।মোঃ রানা (সাবেক সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী) ৫ আগস্ট ২০২৪, সিরাজগঞ্জে।
আব্দুল লতিফ (বগুড়া) ৫ আগস্ট ২০২৪, বগুড়ায়। এসব
অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডেরই বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে। তবে আরেকটি আলোচিত হত্যাকান্ডে পুরো গাজীপুর বাসীকে নাড়া দেয় ২০২৫ সালের ৭ আগস্টে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় রাতে নৃশংসভাবে খুন হয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন।
“নিরবে কাঁদে বিচারের বাণী” সত্যি কি ৭০ দশকের পর থেকে এ পর্যন্ত যতজন সাংবাদিক আহত বা নিহত হয়েছে তার সঠিক সময়ের মধ্যে সঠিক বিচার কি পেয়েছেন তাদের স্বজনরা। যদি আমরা মনে করি দেই একটা সাংবাদিক পরিবার সাগর-রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ড, ছোট্ট শিশু সন্তানের সামনেই বাবা-মাকে খুন করে। সেদিন বোবার মতো তাকিয়ে ছিলো সন্তান। ২০১২ সালের পর থেকে বিগত ১৩ বছরে ১২৫ বার শুনানি তারিখ পরিবর্তন হয়ে আসছে। মনে হয় একটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে চলছে বিচারের বিবেক। গণমাধ্যম কর্মীরা মনে করেছিলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে হয়তো দ্রুত এবার সঠিক বিচার পাওয়া যাবে, কিন্তু না হতাশা নিয়ে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিগত ১৫ বছর সংবাদপত্র গুলোর মধ্যেও একরকম চাটুকারিতা চলে আসছিলো, এটা অবশ্য সাংবাদ কর্মীদের দোষ নয়, সংবাদপত্র পুঁজিবাদী মালিকরা সরকারের কাছ থেকে স্বার্থ আদায়ে বাধ্যতা করেন।
রাষ্ট্র হচ্ছে একটা দেশ তাই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়, অভিযোগ হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনায় এ পর্যন্ত যতগুলো রাজনৈতিক দল সরকারের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে। এই সকল দায়িত্বে থাকা সরকারের ভূমিকায় তারা কি পেরেছেন চতুর্থস্তম্ভটাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, না পেরেছেন তারা মুক্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বরং যে দল যখন ক্ষমতায় এসেছে প্রথমেই গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরে বেরী বাঁধ নির্মাণ করেছে তারপর ডাণ্ডা বেরীর মতো মোটা শিকল পড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের স্বদিচ্ছা ৫৪ বছরের ইতিহাসে কখনোই দেখা যায়নি, তাই সাংবাদিক আহত বা হত্যাকান্ডের বিচার সঠিকভাবে কখনো হয়নি। ঐদিকে সংবাদপত্র নিয়ে রশি টানাটানিতে সংবাদপত্র আর সাংবাদিকদের হাতে নেই, চলে গেছে পুঁজিবাদীদের হাতে। সরকার আর পুঁজিবাদ জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ বলেই জীবনের চাকাটা তাদের কাছে আটকানো। তারপরও আমরা স্লোগান ধরি সংবাদপত্রের বিভিন্ন দিবস পালন করি শুধু মনের তৃপ্তির জন্য। বাস্তব চিত্রটা উল্টো পথে গণমাধ্যমের রূপরেখা দেখা যায়। তারপরও গণমাধ্যমের অধিকার আদায়ে আমরা বলে যাবো “বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম” দিবসের জয় হোক।।
লেখক : কামাল পারভেজ
গণমাধ্যমকর্মী।

শিকলে বাঁধা গণমাধ্যমের দিবস পালন।

প্রকাশের সময় : ১৬ ঘন্টা আগে

শিকলে বাঁধা গণমাধ্যমের দিবস পাল
“কামাল পারভেজ”
একসময় সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নয় এটাকে নেশা হিসেবে নেওয়া হতো। সাংবাদিকতা পেশায় একসময় ধনীর দুলালরাই আসতো, তার কারণ ছিলো যাদের কোনো পিছু টান ছিলোনা অভাব অনটন ছিলোনা। সাংবাদিকতা পেশাটাকে নেশা হিসেবে নেওয়া হতো বলেই এবং রাষ্ট্রের চতর্থস্তম্ভকে একটা সচ্ছ আয়না হিসেবে দেখা হতো। তা-ই সাংবাদিকতাকে মহান পেশা, জাতির বিবেক ও আলোকিত দর্পণ হিসেবে বলা হয়। একসময় সাধারণ জনগণও খুবই সম্মানের চোখে দেখত, এবং সাংবাদিকদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত আঘাত করতেও ভয় পেত। সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার পূর্বেই যদি জানত সাংবাদিক এসেছে তারাও আতঙ্কে থাকত। কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতি সংবাদ প্রকাশিত হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অফিসিয়াল ব্যবস্হা নেওয়া হতো। অনেকেই চাকুরী হারা হতেন। এরকম আমার করা প্রকাশিত কয়েকটি নিউজে চাকুরী থেকে একেবারেই খালি হাতে বাড়ি চলে গেছেন তার প্রমানও পেয়েছি। এমনকি দুর্নীতি দমন ব্যুরো বর্তমান দুদক কর্মকর্তারা তদন্তে আসছে শুনে অফিসে টেবিলের উপর ফাইলপত্র ওভাবেই ফেলে পালিয়েছে। মন্ত্রীর পর্যন্ত তদবির করেও চাকুরীতে আর ফিরে আসতে পারেনি। এটা আমি বেশিদিন আগের কথা বলছি না ১৯৯৮/১৯৯৯ সালের কথা বলছি। ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকের সাংবাদিকতা মানেই পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। বিশেষ করে ২০০০ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যমের একটা সর্বোচ্চ সম্মানজনক অর্জন ছিলো। ২০০০ সালের পর থেকে লাগামহীন বেলেল্লাপনার মতো পত্রিকা নিবন্ধন পেতে লাগলো আর গণমাধ্যমের শক্তি ও সম্মান তলানিতে যেতে লাগলো। বর্তমানে সারাদেশে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক ইত্যাদি নিবন্ধিত রয়েছে প্রায় ৩২৩৭ টার মতো। ১৯৭৫ সালে সারাদেশে দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সংখ্যা হিসেবে ২৫০ থেকে ২৬০ ছিলো। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন এর আগে দেশে শতাধিক পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশিত হতো, কিন্তু ওইদিন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৪টি পত্রিকা বহাল রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করে দেওয়া হয়। ১৬ জুন বাকশালি কায়েমর মধ্য দিয়ে রচিত হয় “কালো অধ্যায় বা কালো দিন”। তখন থেকেই গণমাধ্যমের কালো দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তারপরও সংবাদপত্রের একটা স্বর্ণযুগ ছিলো। সংবাদপত্রকে ধারক বাহক হিসেবে ধারণ করে রাখতে এবং সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার এবং তার নিজস্ব স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছিলো। সেই প্রেক্ষিতে সারাবিশ্বে উত্থাপিত দাবীর ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইউনেস্কোর সুপারিশে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। তখন থেকেই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রতিবছর ৩ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য ছিলো বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মূল্যায়ন, স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা এবং দায়িত্ব পালনকালে নিহত সাংবাদিকদের স্মরণ করা। এই প্রেক্ষিতে একটু পিছনের দিকে তাকালে দেখতে পাই উল্লেখযোগ্য হলো যে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে সরাসরি জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ করে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। ওইদিন ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি “ঢাকা অবরোধ” তারই প্রেক্ষিতঃ পুলিশের গুলিতে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকসহ অনেকেই আহত হন। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে দৈনিক ইত্তেফাকের আলোকচিত্রী আবদুস সবুর নিহত হয়। আমরা আরও দেখতে পাই ১৯৯২ সালের ২১ জুন বিএনপি সরকারের আমলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢুকে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও বেধড়ক পেটানোর ঘটনা ঘটে। এই হামলায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশে ২১ জুনকে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। মনে করিয়ে দিতে চাই ২০১৩-১৪ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে, যার বেশিরভাগই পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।
আমরা যদি আরও পর্যালোচনা করি এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদেরকে গলাটিপে হত্যা করার মতো কাজটি হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে। বিগত ১৫ বছরে ৬৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠন গুলোর হিসাব মতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমের ৩৩৭৫ জন সাংবাদিক নানাভাবে রোষের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ২১ জনকে হত্যা, ১৫১২ জন আহত, ৪৭৯ জনকে মারধর, ২২২ জনের ওপর হামলা, ৬৬ জন গ্রেফতার, ৭জন গুম, ৪৭৬ জনকে হুমকি, ৮ জনকে নির্যাতন এবং ৪২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ঐদিকে পেশাজীবী সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ডিইউজে ও বিএফইউজের হিসাব অনুযায়ী বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে ৬৫ জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। এখানেই শেষ নয়, চ্যানেল ওয়ান, ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দৈনিক দিনকাল, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা গুলোকে কোনঠাসা করে রাখা হয়। আরও ন্যাক্কারজনক ঘটনা হলো ২০২৪ কোটা আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে পুলিশ এবং ছাত্রলীগসহ অন্যান্য বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাংবাদিক নিহত হন এবং শত শত সাংবাদিক আহত হন।
এক্ষেত্রে ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কয়েকজন আলোচিত সাংবাদিক খুন হওয়ার ঘটনায় সারা বাংলাদেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরে। এসকল সাংবাদিক খুনের বিচার এখনো পায়নি তাদের অনেক স্বজনরা। উল্লেখযোগ্য হলো ফরহাদ খা জানুয়ারী ২৮, ২০১১ দৈনিক জনতা ঢাকা, গোলাম মোস্তফা সরোয়ার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ মাছরাঙ্গা টিভি ঢাকা, মেহেরুন রুনি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ এটিএন বাংলা ঢাকা, অনন্ত বিজয় দাশ মে ১২, ২০১২ মুক্তমনা সিলেট, জামাল উদ্দিন জুন ৫, ২০১২ গ্রামের কাগজ যশোর, জুনায়েদ আহমেদ জুলাই ১০, ২০১২ দৈনিক বিবিয়ানা হবিগঞ্জ, তালহাদ আহমেদ কবিদ অক্টোবর ২৩, ২০১২ দৈনিক নরসিংদীর বাণী, দেলোয়ার হোসেন মার্চ ২৮, ২০১৪ দৈনিক সমাচার নারায়ণগঞ্জ, অভিজিৎ রায় ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৫ মুক্তমনা ঢাকা, ওয়াশিকুর রহমান বাবু মার্চ ৩০, ২০১৫ ইস্টিশন ঢাকা, মশিউর রহমান উৎস ডিসেম্বর ২৪, ২০১৫ দৈনিক যুগের আলো রংপুর, আবদুল হাকিম শিমুল ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৭ সমকাল সিরাজগঞ্জ, সুবর্ণা নদী ২৮ আগস্ট ২০১৮ আনন্দ টিভি পাবনা, ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন ২১ মে, ২০১৯ প্রিয় ডট কম জামালপুর, বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বার্তা বাজার নোয়াখালী, শাহজাদা মিয়া আজাদ ৩১ জুলাই ২০১৯ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম ও রংপুর বেতার রংপুর। ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে সাদিকুল ইসলাম (দ্যা ডেইলি স্টার) যশোরের অভয়নগরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। ২০ মে ২০২০ সালে বগুড়ায় নিজ বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দৈনিক খবরপত্র প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারী স্হানীয় পত্রিকা দৈনিক বার্তা এর বিশেষ প্রতিনিধি শামসুজ্জামান শামস নরসিংদীর শিবপুরে নিজ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়। ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে নিহত হয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি মহিউদ্দিন সরকার নাঈম। ১৫ জুন ২০২৩, জামালপুরের বকশীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হওয়ার পর পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বাংলানিউজ২৪.কম এর প্রতিনিধি গোলাম রাব্বানী নাদিম।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও সহিংসতায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার ঘটনা সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। নিহত সাংবাদিকদের তালিকায় আছেন যারা মেহেদী হাসান (ঢাকা টাইমস) ১৮ জুলাই ২০২৪, গাজীপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত।
শাকিল হোসেন (ভোরের আওয়াজ) ১৮ জুলাই ২০২৪, গাজীপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত। আবু তাহের মুহাম্মদ তুরাব (দৈনিক নয়া দিগন্ত) ১৯ জুলাই ২০২৪, সিলেটে পুলিশি গুলিতে নিহত।তাহিদ জামান প্রিয় (ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক) ২ আগস্ট ২০২৪, নিহত।প্রদীপ কুমার ভৌমিক (দৈনিক খবরপত্র) ৪ আগস্ট ২০২৪, সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষের সময় নিহত।মোঃ রানা (সাবেক সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী) ৫ আগস্ট ২০২৪, সিরাজগঞ্জে।
আব্দুল লতিফ (বগুড়া) ৫ আগস্ট ২০২৪, বগুড়ায়। এসব
অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডেরই বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে। তবে আরেকটি আলোচিত হত্যাকান্ডে পুরো গাজীপুর বাসীকে নাড়া দেয় ২০২৫ সালের ৭ আগস্টে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় রাতে নৃশংসভাবে খুন হয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন।
“নিরবে কাঁদে বিচারের বাণী” সত্যি কি ৭০ দশকের পর থেকে এ পর্যন্ত যতজন সাংবাদিক আহত বা নিহত হয়েছে তার সঠিক সময়ের মধ্যে সঠিক বিচার কি পেয়েছেন তাদের স্বজনরা। যদি আমরা মনে করি দেই একটা সাংবাদিক পরিবার সাগর-রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ড, ছোট্ট শিশু সন্তানের সামনেই বাবা-মাকে খুন করে। সেদিন বোবার মতো তাকিয়ে ছিলো সন্তান। ২০১২ সালের পর থেকে বিগত ১৩ বছরে ১২৫ বার শুনানি তারিখ পরিবর্তন হয়ে আসছে। মনে হয় একটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে চলছে বিচারের বিবেক। গণমাধ্যম কর্মীরা মনে করেছিলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে হয়তো দ্রুত এবার সঠিক বিচার পাওয়া যাবে, কিন্তু না হতাশা নিয়ে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিগত ১৫ বছর সংবাদপত্র গুলোর মধ্যেও একরকম চাটুকারিতা চলে আসছিলো, এটা অবশ্য সাংবাদ কর্মীদের দোষ নয়, সংবাদপত্র পুঁজিবাদী মালিকরা সরকারের কাছ থেকে স্বার্থ আদায়ে বাধ্যতা করেন।
রাষ্ট্র হচ্ছে একটা দেশ তাই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়, অভিযোগ হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনায় এ পর্যন্ত যতগুলো রাজনৈতিক দল সরকারের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে। এই সকল দায়িত্বে থাকা সরকারের ভূমিকায় তারা কি পেরেছেন চতুর্থস্তম্ভটাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, না পেরেছেন তারা মুক্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বরং যে দল যখন ক্ষমতায় এসেছে প্রথমেই গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরে বেরী বাঁধ নির্মাণ করেছে তারপর ডাণ্ডা বেরীর মতো মোটা শিকল পড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারের স্বদিচ্ছা ৫৪ বছরের ইতিহাসে কখনোই দেখা যায়নি, তাই সাংবাদিক আহত বা হত্যাকান্ডের বিচার সঠিকভাবে কখনো হয়নি। ঐদিকে সংবাদপত্র নিয়ে রশি টানাটানিতে সংবাদপত্র আর সাংবাদিকদের হাতে নেই, চলে গেছে পুঁজিবাদীদের হাতে। সরকার আর পুঁজিবাদ জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ বলেই জীবনের চাকাটা তাদের কাছে আটকানো। তারপরও আমরা স্লোগান ধরি সংবাদপত্রের বিভিন্ন দিবস পালন করি শুধু মনের তৃপ্তির জন্য। বাস্তব চিত্রটা উল্টো পথে গণমাধ্যমের রূপরেখা দেখা যায়। তারপরও গণমাধ্যমের অধিকার আদায়ে আমরা বলে যাবো “বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম” দিবসের জয় হোক।।
লেখক : কামাল পারভেজ
গণমাধ্যমকর্মী।