, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প।

  • প্রকাশের সময় : ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১০৩ পড়া হয়েছে

আনোয়ার হোসাইন: ঢাকা।

ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্। রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নদ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুই রুটে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২২ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ইতোমধ্যে যে দুটি অংশের জন্য দরপত্র শেষে চুক্তি হয়েছিল, সেগুলোর কাজও থেমে যায়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ সালে ধারণামূলক নকশার ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়। তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ার পর ব্যয় বেড়ে প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নানা কারণে ঢাকায় মেট্রোরেলের কাজ কিছু সময় থেমে ছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মেট্রোরেলের কাজ আবার শুরু হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, কাজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে তাদের কাছে ব্যয় বেশি মনে হওয়ায় কিছু চুক্তি বাতিলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে জাইকা পাল্টা চিঠি দিয়ে ব্যয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।

প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

মেট্রোর কাজ এগোয়নি বলে ২০২৫ সালের মে মাসের পর থেকে চুক্তির শেষ পর্যায়ে থাকা সিপি-২, সিপি-৫ এবং প্রি-কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন শেষ হওয়া সিপি-৬ প্যাকেজসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের পরামর্শক দলের কাজও স্থগিত রাখা হয়।

এ কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত কয়েকটি জাপানি কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। টেন্ডার বন্ডের ব্যাংক সুদ, অফিস পরিচালনা ব্যয় এবং জনবল খরচ বহন করতে গিয়ে তারা আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানের রাষ্ট্রদূত প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদারিত্বেও চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও প্রকল্প বাতিল বা পুনঃটেন্ডার করার বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।

ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প।

প্রকাশের সময় : ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আনোয়ার হোসাইন: ঢাকা।

ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্। রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নদ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুই রুটে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২২ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ইতোমধ্যে যে দুটি অংশের জন্য দরপত্র শেষে চুক্তি হয়েছিল, সেগুলোর কাজও থেমে যায়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ সালে ধারণামূলক নকশার ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়। তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ার পর ব্যয় বেড়ে প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নানা কারণে ঢাকায় মেট্রোরেলের কাজ কিছু সময় থেমে ছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মেট্রোরেলের কাজ আবার শুরু হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, কাজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে তাদের কাছে ব্যয় বেশি মনে হওয়ায় কিছু চুক্তি বাতিলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে জাইকা পাল্টা চিঠি দিয়ে ব্যয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।

প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

মেট্রোর কাজ এগোয়নি বলে ২০২৫ সালের মে মাসের পর থেকে চুক্তির শেষ পর্যায়ে থাকা সিপি-২, সিপি-৫ এবং প্রি-কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন শেষ হওয়া সিপি-৬ প্যাকেজসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের পরামর্শক দলের কাজও স্থগিত রাখা হয়।

এ কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত কয়েকটি জাপানি কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। টেন্ডার বন্ডের ব্যাংক সুদ, অফিস পরিচালনা ব্যয় এবং জনবল খরচ বহন করতে গিয়ে তারা আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানের রাষ্ট্রদূত প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদারিত্বেও চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও প্রকল্প বাতিল বা পুনঃটেন্ডার করার বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।