, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি খুলনায় ছুরিঘাতকে একজন নিহত ২ জন আহত। Eastern Refinery Limited (ইআরএল)-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শাকিব খানের পরবর্তী সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন;বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নববর্ষ প্রবেশের নববস্ত্র পরিধানদির একটা লক্ষণ। সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেন এডভোকেট হাসনা হেনা। প্রধান মন্ত্রীর সফরের দিন-তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনলাইন-অফলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রশাসন ক্যাডারের বিরোধিতায় কি ঝুলে যাচ্ছে এনবিআর ভাগ করা।

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০২ পড়া হয়েছে
বহুল আলোাচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করার পর তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে জটিলতার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের ঠিক আগে এসে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরোধিতায় এর বাস্তবায়ন ঝুলে যাচ্ছে।

গত ২৮ জানুয়ারি এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাতজন সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তানভীর আহমেদ নামে একজন যুগ্ম সচিব। এতে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের অনুরোধও জানানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি অংশ অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত করে নির্বাচনের আগে দুই বিভাগে নতুন করে সচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দুই বিভাগে দুই সচিব নিয়োগসহ অন্যান্য কার্যক্রম কার্যত এই সরকারের সময়ে ঝুলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআরের একাধিক সূত্র। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নতুন সরকার আসার পর এই উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালের ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ—রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গঠনের অধ্যাদেশ জারি সরকার। তবে সে সময় এনবিআর কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত সংশোধন করে এবং গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর পরিমার্জিত অধ্যাদেশ জারি করে। এই সংশোধনের মাধ্যমে এনবিআরের নিজস্ব দুটি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অন্তত একটি বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পাওয়ার পথ সুগম করা হয়।

গত ২০ জানুয়ারি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন দুই বিভাগের কাঠামো, জনবল ও কার্যপদ্ধতি অনুমোদন করা হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী, নিকার সভায় এ ধরনের কোনো প্রস্তাব উত্থাপনের আগে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদন নিতে হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এই নিয়মটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্রমতে, সচিব নিয়োগ ও অন্যান্য কার্যক্রম ঝুলে থাকায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ফলে নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্বে এলে এ উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব আবদুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে এনবিআর ভেঙে দুই ভাগ করার পর বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করা কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তাদেরকে লঘু দণ্ড দিয়ে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এনবিআর দুই ভাগ করার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান ছিল—এনবিআরের এমন একজন সদস্য গতকাল (২ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে বলেন, ‘শেষ সময়ে এসে প্রশাসন ক্যাডারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না—এটা বাস্তব। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা তো এমনিতেই কমে যায়।’

নির্বাচনের আগে সম্ভবত দুই বিভাগের বাস্তবায়ন ঝুলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যদি দেড়-দুই মাস আগেও এটা করা হতো, তাহলে বর্তমানের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।’তবে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে দুটি সভার সিদ্ধান্ত হলেও তা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অনাগ্রহে সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

 

জনপ্রিয়

১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি

প্রশাসন ক্যাডারের বিরোধিতায় কি ঝুলে যাচ্ছে এনবিআর ভাগ করা।

প্রকাশের সময় : ১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বহুল আলোাচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করার পর তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে জটিলতার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের ঠিক আগে এসে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরোধিতায় এর বাস্তবায়ন ঝুলে যাচ্ছে।

গত ২৮ জানুয়ারি এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাতজন সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তানভীর আহমেদ নামে একজন যুগ্ম সচিব। এতে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের অনুরোধও জানানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি অংশ অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত করে নির্বাচনের আগে দুই বিভাগে নতুন করে সচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দুই বিভাগে দুই সচিব নিয়োগসহ অন্যান্য কার্যক্রম কার্যত এই সরকারের সময়ে ঝুলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআরের একাধিক সূত্র। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নতুন সরকার আসার পর এই উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালের ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ—রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গঠনের অধ্যাদেশ জারি সরকার। তবে সে সময় এনবিআর কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত সংশোধন করে এবং গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর পরিমার্জিত অধ্যাদেশ জারি করে। এই সংশোধনের মাধ্যমে এনবিআরের নিজস্ব দুটি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অন্তত একটি বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পাওয়ার পথ সুগম করা হয়।

গত ২০ জানুয়ারি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন দুই বিভাগের কাঠামো, জনবল ও কার্যপদ্ধতি অনুমোদন করা হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী, নিকার সভায় এ ধরনের কোনো প্রস্তাব উত্থাপনের আগে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদন নিতে হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এই নিয়মটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্রমতে, সচিব নিয়োগ ও অন্যান্য কার্যক্রম ঝুলে থাকায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ফলে নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্বে এলে এ উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব আবদুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে এনবিআর ভেঙে দুই ভাগ করার পর বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করা কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তাদেরকে লঘু দণ্ড দিয়ে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এনবিআর দুই ভাগ করার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান ছিল—এনবিআরের এমন একজন সদস্য গতকাল (২ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে বলেন, ‘শেষ সময়ে এসে প্রশাসন ক্যাডারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না—এটা বাস্তব। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা তো এমনিতেই কমে যায়।’

নির্বাচনের আগে সম্ভবত দুই বিভাগের বাস্তবায়ন ঝুলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যদি দেড়-দুই মাস আগেও এটা করা হতো, তাহলে বর্তমানের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।’তবে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে দুটি সভার সিদ্ধান্ত হলেও তা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অনাগ্রহে সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্র।