, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম আগের রূপে ফিরেনি। রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবী আইনজীবীর। ৩৮ হাজার মামলায় ৯ কোটি টাকা জরিমানা। এমপি হতে হান্নান মাসউদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়েছিলেন। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে এক কিশোর নিহত। নতুন এক ঐতিহাসিক অর্জন যোগ হলো লিওনেল মেসির। স্বেচ্ছায় প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে সংসার পেতেছে বলে পুলিশের তদন্তে। মেক্সিকোর তরুণ তুর্কি গিলবার্তো মোরার বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন। প্রধান মন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির সাক্ষাৎ। আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট।

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম আগের রূপে ফিরেনি।

  • প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
  • ৩ পড়া হয়েছে
 ঈদুল আজহার শেষ হলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম আগের রূপে ফিরেন। অধিকাংশ মানুষ এখনও গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে না আসায় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশ কম। তবে ক্রেতা খরার এ সময়েও নিত্যপণ্যের বাজার দরে দেখা মিশ্র প্রভাব। সরবরাহ ও এলাকাভেদে কিছু কিছু সবজির দাম কমলেও, সামগ্রিকভাবে বাজার এখনও চড়া।
এদিকে, মাংসের বাজার এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি, তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে ডিমের বাজার।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সাধারণত শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে যে উপচে পড়া ভিড় থাকে, আজ তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই বিক্রেতারা দোকান সাজিয়ে বসলেও ক্রেতার দেখা মিলেছে সামান্যই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক পরিবার এখনও ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেনি। আবার যারা ঢাকা আছেন, তাদের অনেকের ঘরেই কোরবানির মাংস মজুত থাকায় বাজারে আসার তাগিদ কম।
রামপুরার আল-আমিন চিকেন হাউজের এক বিক্রেতা বলেন, ‘আজই দোকান খুলেছি। কিন্তু বাজারে বিক্রি খুব একটা নেই। মানুষ এখনও গ্রামে আছে, আবার বাসায় কোরবানির মাংস থাকায় মুরগির চাহিদাও কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দু-এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।’
একই সুর শোনা গেল মাছ বিক্রেতা আলমগীরের কণ্ঠেও। তিনি জানান, ঈদের আগে মানুষ একসাথে অনেক বাজার করে রাখায় এখন কেনাকাটার পরিমাণ সীমিত।
সবজির বাজারে মিশ্র হাওয়া : কোথাও স্বস্তি, কোথাও চড়া
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামে এক ধরণের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রাবাড়ী ও শনিরআখড়ার মতো পাইকারি সংলগ্ন এলাকায় সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমলেও, রামপুরা বা ভেতরের দিকের বাজারগুলোতে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি।
সবজি বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে পরিবহন সংকটের কারণে দাম বাড়লেও এখন বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সবজি আসতে শুরু করেছে।
শনিরআখড়ার সবজি বিক্রেতা সোহেল বলেন, ‘ঈদের আগের তুলনায় সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সরবরাহ এমন থাকলে আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমতে পারে।’
তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। কোনো কোনো বাজারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী সালাম হোসেনের মতে, পাইকাররা পুরোপুরি বাজারে না ফেরায় সরবরাহে কিছু ঘাটতি রয়েছে, যার কারণে দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি গাজর ১৬০ টাকা এবং চায়না গাজর ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লম্বা বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কালো বেগুন ১০০ টাকা এবং করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা। অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৮০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৮০ টাকা এবং দেশি পটল ১৪০ টাকা। চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, এবং কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কচুমুখী ৮০ থেকে ১২০ টাকা, মূলা ৪০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা। এদিকে আকারভেদে প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া বাজারভেদে লেবু প্রতি হালি ১০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
মুরগির বাজারে অস্বস্তি, ডিমে কিছুটা স্বস্তি
ঈদের পর মাংসের বাজারগুলো এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি। বেশিরভাগ গরুর ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ রয়েছে। তবে যে দু-একটি দোকান খোলা রয়েছে, সেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোরবানির রেশ থাকায় মাংসের দোকানে ক্রেতা নেই বললেই চলে।
তবে বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্রয়লার মুরগির দামে। ঈদের মাত্র একদিন পরেই যে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল, তা শুক্রবার বাজারভেদে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে।
রামপুরা বাজারে মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা সাদাত সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদ যেতে না যেতেই ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে গেল। সাধারণ মানুষের প্রোটিনের এই উৎসটুকু নিয়ে সবসময়ই টানাটানি চলে।’
মাংসের বাজারে অস্বস্তি থাকলেও ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে প্রতি ডজন লাল/বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় (যা আগে ১৪০ টাকা ছিল)। সাদা ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং হাঁসের ডিম প্রতি ডজন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা ডজন।
আলুর বাজার স্থিতিশীল, মসলায় আগের মতোই ঝাঁজ
সবজি ও মুরগির বাজারে ওঠানামা থাকলেও আলু ও পেঁয়াজের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং লাল ও সাদা আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৬০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছের বাজার এখনো চড়া
ঈদের ছুটির কারণে নদী ও হাওর অঞ্চল থেকে মাছের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় মাছের বাজার এখনো বেশ গরম। বিক্রেতাদের দাবি, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় দাম কমার সম্ভাবনা কম। মাছের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়- ইলিশের আকার ও ওজনভেদে প্রতি কেজি ১,৩০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, পাঙাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা (আকারভেদে ভালো মানের শিং ১,২০০ টাকা পর্যন্ত), পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১,৮০০ টাকা, টেংরা ও বেলে ৭০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া ও বাজার ব্যবস্থাপনা
নিত্যপণ্যের এমন দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঈদের পর সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি লাগছে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’
শান্তিনগর বাজারে আরেক ক্রেতা রুমানা আক্তার বলেন, ‘সবজির বাজারে সামান্য স্বস্তি মিললেও মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ খুব একটা কমেনি।’
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমী সবজির সরবরাহ আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়লে বাজারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফেরাতে হলে শুধু সরবরাহের ওপর ভরসা করলে চলবে না; বরং উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। ভোক্তাদের আশা, ঈদের ছুটির আমেজ কেটে শহর সচল হওয়ার সাথে সাথে বাজার পরিস্থিতি আবার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসবে।
amadertikana.com

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম আগের রূপে ফিরেনি।

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম আগের রূপে ফিরেনি।

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
 ঈদুল আজহার শেষ হলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম আগের রূপে ফিরেন। অধিকাংশ মানুষ এখনও গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে না আসায় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশ কম। তবে ক্রেতা খরার এ সময়েও নিত্যপণ্যের বাজার দরে দেখা মিশ্র প্রভাব। সরবরাহ ও এলাকাভেদে কিছু কিছু সবজির দাম কমলেও, সামগ্রিকভাবে বাজার এখনও চড়া।
এদিকে, মাংসের বাজার এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি, তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে ডিমের বাজার।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সাধারণত শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে যে উপচে পড়া ভিড় থাকে, আজ তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই বিক্রেতারা দোকান সাজিয়ে বসলেও ক্রেতার দেখা মিলেছে সামান্যই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক পরিবার এখনও ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেনি। আবার যারা ঢাকা আছেন, তাদের অনেকের ঘরেই কোরবানির মাংস মজুত থাকায় বাজারে আসার তাগিদ কম।
রামপুরার আল-আমিন চিকেন হাউজের এক বিক্রেতা বলেন, ‘আজই দোকান খুলেছি। কিন্তু বাজারে বিক্রি খুব একটা নেই। মানুষ এখনও গ্রামে আছে, আবার বাসায় কোরবানির মাংস থাকায় মুরগির চাহিদাও কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দু-এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।’
একই সুর শোনা গেল মাছ বিক্রেতা আলমগীরের কণ্ঠেও। তিনি জানান, ঈদের আগে মানুষ একসাথে অনেক বাজার করে রাখায় এখন কেনাকাটার পরিমাণ সীমিত।
সবজির বাজারে মিশ্র হাওয়া : কোথাও স্বস্তি, কোথাও চড়া
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামে এক ধরণের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রাবাড়ী ও শনিরআখড়ার মতো পাইকারি সংলগ্ন এলাকায় সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমলেও, রামপুরা বা ভেতরের দিকের বাজারগুলোতে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি।
সবজি বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে পরিবহন সংকটের কারণে দাম বাড়লেও এখন বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সবজি আসতে শুরু করেছে।
শনিরআখড়ার সবজি বিক্রেতা সোহেল বলেন, ‘ঈদের আগের তুলনায় সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সরবরাহ এমন থাকলে আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমতে পারে।’
তবে ভিন্ন চিত্রও আছে। কোনো কোনো বাজারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী সালাম হোসেনের মতে, পাইকাররা পুরোপুরি বাজারে না ফেরায় সরবরাহে কিছু ঘাটতি রয়েছে, যার কারণে দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি গাজর ১৬০ টাকা এবং চায়না গাজর ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লম্বা বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কালো বেগুন ১০০ টাকা এবং করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা। অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৮০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৮০ টাকা এবং দেশি পটল ১৪০ টাকা। চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, এবং কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কচুমুখী ৮০ থেকে ১২০ টাকা, মূলা ৪০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা। এদিকে আকারভেদে প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া বাজারভেদে লেবু প্রতি হালি ১০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
মুরগির বাজারে অস্বস্তি, ডিমে কিছুটা স্বস্তি
ঈদের পর মাংসের বাজারগুলো এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি। বেশিরভাগ গরুর ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ রয়েছে। তবে যে দু-একটি দোকান খোলা রয়েছে, সেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোরবানির রেশ থাকায় মাংসের দোকানে ক্রেতা নেই বললেই চলে।
তবে বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্রয়লার মুরগির দামে। ঈদের মাত্র একদিন পরেই যে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল, তা শুক্রবার বাজারভেদে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে।
রামপুরা বাজারে মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা সাদাত সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদ যেতে না যেতেই ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে গেল। সাধারণ মানুষের প্রোটিনের এই উৎসটুকু নিয়ে সবসময়ই টানাটানি চলে।’
মাংসের বাজারে অস্বস্তি থাকলেও ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে প্রতি ডজন লাল/বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় (যা আগে ১৪০ টাকা ছিল)। সাদা ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং হাঁসের ডিম প্রতি ডজন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা ডজন।
আলুর বাজার স্থিতিশীল, মসলায় আগের মতোই ঝাঁজ
সবজি ও মুরগির বাজারে ওঠানামা থাকলেও আলু ও পেঁয়াজের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং লাল ও সাদা আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৬০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছের বাজার এখনো চড়া
ঈদের ছুটির কারণে নদী ও হাওর অঞ্চল থেকে মাছের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় মাছের বাজার এখনো বেশ গরম। বিক্রেতাদের দাবি, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় দাম কমার সম্ভাবনা কম। মাছের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়- ইলিশের আকার ও ওজনভেদে প্রতি কেজি ১,৩০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, পাঙাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা (আকারভেদে ভালো মানের শিং ১,২০০ টাকা পর্যন্ত), পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১,৮০০ টাকা, টেংরা ও বেলে ৭০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া ও বাজার ব্যবস্থাপনা
নিত্যপণ্যের এমন দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঈদের পর সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি লাগছে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’
শান্তিনগর বাজারে আরেক ক্রেতা রুমানা আক্তার বলেন, ‘সবজির বাজারে সামান্য স্বস্তি মিললেও মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ খুব একটা কমেনি।’
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমী সবজির সরবরাহ আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়লে বাজারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফেরাতে হলে শুধু সরবরাহের ওপর ভরসা করলে চলবে না; বরং উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। ভোক্তাদের আশা, ঈদের ছুটির আমেজ কেটে শহর সচল হওয়ার সাথে সাথে বাজার পরিস্থিতি আবার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসবে।
amadertikana.com