, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি খুলনায় ছুরিঘাতকে একজন নিহত ২ জন আহত। Eastern Refinery Limited (ইআরএল)-এর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শাকিব খানের পরবর্তী সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন;বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নববর্ষ প্রবেশের নববস্ত্র পরিধানদির একটা লক্ষণ। সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেন এডভোকেট হাসনা হেনা। প্রধান মন্ত্রীর সফরের দিন-তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনলাইন-অফলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কালামিয়াবাজারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ও ইফতার সামগ্রী না পেয়ে হালি হাতে ফিরলেন অসহায় মানুষগুলো।

  • প্রকাশের সময় : ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭২ পড়া হয়েছে

কাজী জাহাঙ্গীর: চট্রগ্রাম।

নগরীর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে বাকলিয়া থানাধীন কালামিয়া বাজারে ইফতার ও সাহরি সামগ্রী বিতরণের নামে এলাকাবাসীর সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ‘মরহুম ইসমাইল স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কার্ডধারী শত শত মানুষ দীর্ঘক্ষণ তীব্র রোদের মধ্যে অপেক্ষা করেও কোনো সামগ্রী না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। এই ঘটনায় (চসিক)শাহাদাৎ হোসেন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ইমেজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ফটোসেশন শেষেই উধাও ‘ত্রাণ’

প্রত্যক্ষদর্শী ও মানবতা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আজ ২৭ ফেব্রুয়ারী দুপুর ২.৩০ মিনিট থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা খোলা আকাশের নিচে কড়া রোদে বসিয়ে রেখে কালো পলিতিনে করে ২ কেজি চাউল, চনা ১ কেজি, চিড়া ৫০০ গ্রাম বিতরণের নামে ওয়ার্ড যুবদলের তত্ত্বাবধানে কালামিয়া বাজারে মঞ্চ

সাজিয়ে ঘটা করে ইফতার ও সাহরি সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মেয়র মঞ্চ ত্যাগ করার পরপরই আয়োজকরা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কার্ডধারী অনেক অসহায় মানুষ সারাদিন রোজা রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো ইফতার সামগ্রী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ও ক্ষোভ

এলাকাবাসীর দাবি, গত বছরও একইভাবে কার্ড দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। এবারও একদল ‘নাবালক রাজনৈতিক কর্মী’ ও ‘গলাবাজ’ পাতি নেতার অতি উৎসাহে সাধারণ মানুষকে ডেকে এনে কেবল ফটোসেশন করা হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“সারাদিন রোজা রেখে কার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। ডাক্তার সাহেব (মেয়র) ছবি তুলে চলে যাওয়ার পরই জানানো হলো মালামাল শেষ। এটা মানুষের সাথে স্রেফ বাটপারি ছাড়া আর কিছু নয়।”

প্রশ্নের মুখে মেয়রের ভূমিকা

মরহুম ইসমাইল ছিলেন বাকলিয়ার একজন ভালো রাজনীতিবিদ। তাঁর নামে গঠিত ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে এলাকাবাসীর সাথে এমন প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে, অতি উৎসাহী কিছু কর্মীর পাতানো ফাঁদে পড়ে চসিক মেয়র নিজের ইমেজ নষ্ট করছেন। চসিকের আইনের মারপেঁচের মেয়র হিসেবে এই প্রতারণার দায় তিনি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

জবাব চান ভুক্তভোগীরা

ইফতার ও সাহরি সামগ্রী বিতরণের নামে এই তথাকথিত ‘প্রতারণা’ নিয়ে কালামিয়া বাজার এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কার্ড নিয়ে অসহায় মানুষ ইফতার সামগ্রী না পাওয়ায় হামলায়ও জড়িয়েছে কিছু বঞ্চিত অসহায়। এলাকাবাসী সরাসরি মেয়র ও স্থানীয় এমপি জনাব আবু সুফিয়ান এর কাছে এই ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা এবং জবাব চেয়েছেন। একই সাথে ডা. শাহাদাত হোসেনের উচিত এ ধরনের বিতর্কিত কর্মসূচি ও স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন বয়কট করা।

আমাদের ঠিকানা নিউজ। 
জনপ্রিয়

১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালি

কালামিয়াবাজারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ও ইফতার সামগ্রী না পেয়ে হালি হাতে ফিরলেন অসহায় মানুষগুলো।

প্রকাশের সময় : ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কাজী জাহাঙ্গীর: চট্রগ্রাম।

নগরীর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে বাকলিয়া থানাধীন কালামিয়া বাজারে ইফতার ও সাহরি সামগ্রী বিতরণের নামে এলাকাবাসীর সাথে চরম প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ‘মরহুম ইসমাইল স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কার্ডধারী শত শত মানুষ দীর্ঘক্ষণ তীব্র রোদের মধ্যে অপেক্ষা করেও কোনো সামগ্রী না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। এই ঘটনায় (চসিক)শাহাদাৎ হোসেন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ইমেজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ফটোসেশন শেষেই উধাও ‘ত্রাণ’

প্রত্যক্ষদর্শী ও মানবতা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আজ ২৭ ফেব্রুয়ারী দুপুর ২.৩০ মিনিট থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা খোলা আকাশের নিচে কড়া রোদে বসিয়ে রেখে কালো পলিতিনে করে ২ কেজি চাউল, চনা ১ কেজি, চিড়া ৫০০ গ্রাম বিতরণের নামে ওয়ার্ড যুবদলের তত্ত্বাবধানে কালামিয়া বাজারে মঞ্চ

সাজিয়ে ঘটা করে ইফতার ও সাহরি সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মেয়র মঞ্চ ত্যাগ করার পরপরই আয়োজকরা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কার্ডধারী অনেক অসহায় মানুষ সারাদিন রোজা রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো ইফতার সামগ্রী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ও ক্ষোভ

এলাকাবাসীর দাবি, গত বছরও একইভাবে কার্ড দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। এবারও একদল ‘নাবালক রাজনৈতিক কর্মী’ ও ‘গলাবাজ’ পাতি নেতার অতি উৎসাহে সাধারণ মানুষকে ডেকে এনে কেবল ফটোসেশন করা হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“সারাদিন রোজা রেখে কার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। ডাক্তার সাহেব (মেয়র) ছবি তুলে চলে যাওয়ার পরই জানানো হলো মালামাল শেষ। এটা মানুষের সাথে স্রেফ বাটপারি ছাড়া আর কিছু নয়।”

প্রশ্নের মুখে মেয়রের ভূমিকা

মরহুম ইসমাইল ছিলেন বাকলিয়ার একজন ভালো রাজনীতিবিদ। তাঁর নামে গঠিত ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে এলাকাবাসীর সাথে এমন প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে, অতি উৎসাহী কিছু কর্মীর পাতানো ফাঁদে পড়ে চসিক মেয়র নিজের ইমেজ নষ্ট করছেন। চসিকের আইনের মারপেঁচের মেয়র হিসেবে এই প্রতারণার দায় তিনি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

জবাব চান ভুক্তভোগীরা

ইফতার ও সাহরি সামগ্রী বিতরণের নামে এই তথাকথিত ‘প্রতারণা’ নিয়ে কালামিয়া বাজার এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কার্ড নিয়ে অসহায় মানুষ ইফতার সামগ্রী না পাওয়ায় হামলায়ও জড়িয়েছে কিছু বঞ্চিত অসহায়। এলাকাবাসী সরাসরি মেয়র ও স্থানীয় এমপি জনাব আবু সুফিয়ান এর কাছে এই ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা এবং জবাব চেয়েছেন। একই সাথে ডা. শাহাদাত হোসেনের উচিত এ ধরনের বিতর্কিত কর্মসূচি ও স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন বয়কট করা।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।