, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন: মোস্তাকুর রহমান। কারওয়ান বাজারে ট্র্যাফিক সিগন্যালে রাষ্ট্র পতি। মবের আশঙ্কা নেই, তবুও প্রস্তুতি রাখবো : অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। আগামী ৩ মার্চ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ডিএমপি নতুন কমিশনার কে হচ্ছেন। পিলখানা ট্র্যাজেডি, আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে যথাযথ ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ। দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

পিলখানা ট্র্যাজেডি, আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের।

  • প্রকাশের সময় : ৪০ মিনিট আগে
  • ১ পড়া হয়েছে

আমাদের ঠিকানা নিউজ।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় আসামি হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী-এমপিসহ হেভিওয়েট নেতাকর্মীরা।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) কিছু উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক বিদ্রোহ শুরু করেন। এ সময় তাদের গুলিতে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। সেই দিনের সেই ঘটনায় পুরো জাতি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার শেষ হলেও ১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি।

তবে বিডিআর বিস্ফোরক আইনে মামলাটিতে নতুন করে বেশ কিছু আসামি সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, একাধিক সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। আইনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আমরা পরে পদক্ষেপ নেব।

বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ড. মো. আলমগীরের আদালতে মামলাটি বিচারধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি মামলাটিতে দুইজন সেনা কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করে।

এখন পর্যন্ত মামলাটিতে এক হাজার ৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকর্মী জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য উঠে এসেছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামির সংখ্যা ৮২২ জন। জামিনে আছেন প্রায় ২৫০ জন। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে প্রথমে চকবাজার থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার স্থগিত ছিল।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলাটি ঢাকার নিম্ন আদালতের রায় এবং ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সও আপিল নিষ্পত্তি হয়। তবে এই ঘটনার বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এখনো বিচারাধীন।

হত্যা মামলাটির রায়ে ঢাকার নিম্ন আদালত ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন। বর্তমানে হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগে রয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফয়সাল হোসাইন বলেন, আমরা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক আইনের মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চাই। মামলাটিতে আদালত যেন দ্রুত রায় ঘোষণা করেন সেটাই আমাদের কাম্য। এই মামলায় কোনো আসামির জামিন হচ্ছে না। আসামিদের পক্ষে কয়েক দফায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন চাওয়া হলেও তা নামঞ্জুর করে আদালত। পরবর্তী ধার্য তারিখে সব আসামির জামিন আবেদন করা হবে। আশা করছি জামিন মিলবে।

amadertikana.com

 

নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন: মোস্তাকুর রহমান।

পিলখানা ট্র্যাজেডি, আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের।

প্রকাশের সময় : ৪০ মিনিট আগে

আমাদের ঠিকানা নিউজ।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় আসামি হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী-এমপিসহ হেভিওয়েট নেতাকর্মীরা।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) কিছু উচ্ছৃঙ্খল সৈনিক বিদ্রোহ শুরু করেন। এ সময় তাদের গুলিতে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। সেই দিনের সেই ঘটনায় পুরো জাতি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার শেষ হলেও ১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি।

তবে বিডিআর বিস্ফোরক আইনে মামলাটিতে নতুন করে বেশ কিছু আসামি সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, একাধিক সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। আইনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আমরা পরে পদক্ষেপ নেব।

বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ড. মো. আলমগীরের আদালতে মামলাটি বিচারধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি মামলাটিতে দুইজন সেনা কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করে।

এখন পর্যন্ত মামলাটিতে এক হাজার ৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকর্মী জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য উঠে এসেছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামির সংখ্যা ৮২২ জন। জামিনে আছেন প্রায় ২৫০ জন। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে প্রথমে চকবাজার থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ২০১১ সালের ১০ আগস্ট হত্যা মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার স্থগিত ছিল।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলাটি ঢাকার নিম্ন আদালতের রায় এবং ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সও আপিল নিষ্পত্তি হয়। তবে এই ঘটনার বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এখনো বিচারাধীন।

হত্যা মামলাটির রায়ে ঢাকার নিম্ন আদালত ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন। বর্তমানে হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগে রয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফয়সাল হোসাইন বলেন, আমরা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক আইনের মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চাই। মামলাটিতে আদালত যেন দ্রুত রায় ঘোষণা করেন সেটাই আমাদের কাম্য। এই মামলায় কোনো আসামির জামিন হচ্ছে না। আসামিদের পক্ষে কয়েক দফায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন চাওয়া হলেও তা নামঞ্জুর করে আদালত। পরবর্তী ধার্য তারিখে সব আসামির জামিন আবেদন করা হবে। আশা করছি জামিন মিলবে।

amadertikana.com