
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ সংবিধান অনুযায়ী প্রদান করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সরকার ও বিজয়ী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, সংবিধানের এই বিধানই শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ার একমাত্র ত্রুটিমুক্ত পথ।
নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি সংবিধান মেনে শপথ নিতে প্রস্তুত। নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে তারা শপথ গ্রহণ করতে চান। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত এমপি প্রার্থীদের শপথ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায়।
বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটবিহীন অবস্থার মধ্যে ছিল। ক্ষমতা ধরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০০৬ সালের ২৪ জুলাই গণআন্দোলনের পর সরকার পতিত হয়ে নতুন সরকারের সূচনা হয়। ২০০৬ সালের ৫ আগস্ট দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ছেড়ে যান। ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়, আর ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
প্রায় দেড় বছরের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮টি আসন জয়ী হয়েছেন।
তবে দেশে এক বিশেষ পরিস্থিতি চলমান থাকায় এই শপথ গ্রহণ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। নবনির্বাচিত এমপিদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এবং তার কোনো খোঁজ না থাকায় ও ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় এই প্রশ্ন ওঠে।
সে কারণে সিইসি এবার বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ পড়াবেন। শপথ প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত রাখতেই এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সরকার ও বিজয়ী দল। শপথ অনুষ্ঠান ১৬ ফেব্রুয়ারি না হলেও ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যেদিন সকালে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও তাদের অপসারণ বিষয়ে বলা আছে। তবে এই দুটি পদে কেউ দায়িত্বে বহাল না থাকলেও বা পদ দুটি শূন্য হলেও ৭৪ অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ(৬) অনুযায়ী তারা নতুন নির্বাচিতদের শপথ পড়াতে পারতেন; কিন্তু জটিলতা হচ্ছে, সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগের পর তার কোনো খোঁজ নেই এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। সে কারণে স্পিকার শপথ পড়াতে অক্ষম অবস্থায় রয়েছেন বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হন এবং তখন থেকে কারাগারে। ফলে তারও শপথ পড়ানোর আইনগত অবস্থা নেই।
আমাদের ঠিকানা।























