নিউজ ডেস্ক।
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৬৫ ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছ। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। বিকাল ৫টার পর থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন কেন্দ্র খেকে ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোট চললেও দিনভর একাধিক কেন্দ্রে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামে তিনজন রিটার্নিং অফিসারের অধীনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ১৯৬৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ১২০০১ জন সহকারী প্রসাইডিং এবং ২৪ হাজার ১ জন পোলিং অফিসারকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন।
চট্টগ্রামে ১৬ সংসদীয় আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, এলডিপি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, গণ ফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, সুপ্রিম পার্টি, বাসদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র মিলে এখন ১১৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
পুরো জেলার ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীসহ ৪০হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোটের মাঠে কাজ করেছেন প্রায় ১১৫ জন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
নির্বাচন চলাকালে আনোয়ারা উপজেলায় মোমবাতি প্রতীকের এক প্রার্থীর এজেন্টকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তিন সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই রেজাল্ট শিটে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়। একই ধরনের ঘটনায় ফটিকছড়ি উপজেলার পূর্ব সুয়াবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্বাক্ষর নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে নগরের আকবর শাহ থানাধীন একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে মো. নুরুল আফসার (৪৫) নামের এক ভোটার আহত হন। এছাড়া বোয়ালখালী উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্র থেকে আবু বক্কর (২৫) নামের এক যুবককে আটক করে সেনাবাহিনী।নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তামান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আমাদের ঠিকানা।