, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুস্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চর জেগেছে।

  • প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে
  • ৩ পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।

রাজশাহীর পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এবার চর পড়েছে। শুস্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চর জেগেছ নতুন নতুন এলাকা। অসংখ্য এইসব খন্ড খন্ড চর এখন ভাগ করে ফেলেছে পুরো নদীকে। পদ্মা নদীর রাজশাহী শহর অংশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে চর পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মার পারে টং দোকান চালান হোসনে আরা বেগম। তার জন্মের সময় অনেক বন্যা হওয়ায় মা নাম রেখেছিলেন পদ্মা। সেই পদ্মা নামেই পরিচিতি হোসনে আরার। সেই হোসনে আরা পদ্মা বললেন, জন্মের পর কোনো দিন তিনি শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে চর জাগতে দেখেননি। এবার শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এখানে চর জেগেছে।

রাজশাহীর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে সম্প্রতি জেগে উঠেছে বেশ কয়েকটি নতুন চর। বর্ষা মৌসুম শেষে পানির স্তর কমে যাওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে বিস্তীর্ণ বালুচর। নগরীর শ্রীরামপুর, বুলনপুর, তালাইমারী, কাটাখালী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন অংশে এসব চর এখন স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে নদীর গতিপথে পরিবর্তন এবং উজান থেকে নেমে আসা পলির কারণে এই চর জাগার প্রবণতা বেড়েছে। আগে যেখানে ছিল প্রবল স্রোত, এখন সেখানে হাঁটাচলার মতো শক্ত মাটির স্তর তৈরি হয়েছে।

নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌ-চলাচলে দেখা দিচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে মাঝনদীতে বালুচর থাকায় ছোট নৌযান চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

নদী বিশেষজ্ঞ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। অপরিকল্পিতভাবে চর দখল, জরিপ না করে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে এমন চর জেগেছে।

পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, নদীর এ পরিবর্তন জলজ প্রাণীর আবাসস্থলেও প্রভাব ফেলতে পারে। মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হলে তা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। রাজশাহী পরিবেশ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, নদী খননের উদ্যোগ না নিলে পদ্মা একটা সময় নালায় পরিণত হতে পারে।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।

 

শুস্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চর জেগেছে।

প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক।

রাজশাহীর পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এবার চর পড়েছে। শুস্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চর জেগেছ নতুন নতুন এলাকা। অসংখ্য এইসব খন্ড খন্ড চর এখন ভাগ করে ফেলেছে পুরো নদীকে। পদ্মা নদীর রাজশাহী শহর অংশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে চর পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মার পারে টং দোকান চালান হোসনে আরা বেগম। তার জন্মের সময় অনেক বন্যা হওয়ায় মা নাম রেখেছিলেন পদ্মা। সেই পদ্মা নামেই পরিচিতি হোসনে আরার। সেই হোসনে আরা পদ্মা বললেন, জন্মের পর কোনো দিন তিনি শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে চর জাগতে দেখেননি। এবার শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এখানে চর জেগেছে।

রাজশাহীর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে সম্প্রতি জেগে উঠেছে বেশ কয়েকটি নতুন চর। বর্ষা মৌসুম শেষে পানির স্তর কমে যাওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে বিস্তীর্ণ বালুচর। নগরীর শ্রীরামপুর, বুলনপুর, তালাইমারী, কাটাখালী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন অংশে এসব চর এখন স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে নদীর গতিপথে পরিবর্তন এবং উজান থেকে নেমে আসা পলির কারণে এই চর জাগার প্রবণতা বেড়েছে। আগে যেখানে ছিল প্রবল স্রোত, এখন সেখানে হাঁটাচলার মতো শক্ত মাটির স্তর তৈরি হয়েছে।

নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌ-চলাচলে দেখা দিচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে মাঝনদীতে বালুচর থাকায় ছোট নৌযান চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

নদী বিশেষজ্ঞ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। অপরিকল্পিতভাবে চর দখল, জরিপ না করে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে এমন চর জেগেছে।

পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, নদীর এ পরিবর্তন জলজ প্রাণীর আবাসস্থলেও প্রভাব ফেলতে পারে। মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হলে তা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। রাজশাহী পরিবেশ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, নদী খননের উদ্যোগ না নিলে পদ্মা একটা সময় নালায় পরিণত হতে পারে।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।