কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে গিয়ে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া মিরসরাইয়ের এক স্কুলছাত্রীকে পাঁচ দিন পর নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নিঝুমদ্বীপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রীর নাম পূজা রানী দাস (১৬)। তিনি মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও উপজেলার মায়ানী ইউনিয়ন পূর্ব মায়নী এলাকার অপু দাসের মেয়ে। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে শিক্ষা সফর শেষে ফেরার সময় রোল কলের সময় এক শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় এবং কক্সবাজার সদর থানায় একটি মিসিং ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি ছিল না। তাদের দাবি, ছাত্রী প্রেমজনিত কারণে নিজ ইচ্ছায় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। শিক্ষা সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষকরা সর্বদা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছেন।
পিকনিকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, গাড়ি ছাড়ার কিছুক্ষণ আগেও পূজাকে বাসের ভেতরে কাপড় পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। এর আগে তাকে এক অজ্ঞাতনামা যুবকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ওই যুবক নিজেকে তার আপন ভাই বলে পরিচয় দেয়। পরে জানা যায়, ওই যুবকই পূজার বয়ফ্রেন্ড
জানা যায়, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থানের সময় নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলনের ছেলে জিহাদের সঙ্গে পূজার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই শিক্ষা সফর চলাকালীন তিনি নিঝুম দ্বীপে জিহাদের বাড়িতে চলে আসেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর নিঝুমদ্বীপের একটি এলাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দশম শ্রেণির এই ছাত্রী। পরে পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।