
নিউজ ডেস্ক।
পবিত্র ইদুল ফিতর উপলক্ষে রাজশাহীর বাজারে বেড়েছে সব ধরনের মাংসের দাম। তবে সবজির দাম কিছুটা কমেছ। বুধবার (১৮ মার্চ) নগরীর সাহেববাজার, সাগরপাড়া, ভদ্রা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গেল শুক্রবার গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু দুই তিন দিন ধরে গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর কলিজা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৫০০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। একইভাবে খাসির মাংস এক সপ্তাহ আগে ১ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ঈদের সামনে রেখে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে সব ধরনের মুরগির দাম। এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগি সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম প্রায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। সোনালি মুরগি শুক্রবারে ৩০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৩০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম ৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা কেজি। আর ব্রয়লার মুরগি এক সপ্তাহ আগেও ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন ইদকে সামনে রেখে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।
সবজির বাজারে দেখা গেছে, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা এবং শালগম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। দেশি শসা ৮০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা এবং খিরাই শসা কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি ব্যবসায়ী আরমান আলী বলেন, ইদকে সামনে রেখে খামারিরা দাম বাড়িয়েছে। তাই আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আলু বোখারার দাম কেজিতে ৩০০ টাকা বেড়েছে। ৯০০ টাকার এই মসলা ১ হাজার ২০০ টাকা হয়ে গেছে। সাড়ে ৮০০ টাকার কিশমিশ সাড়ে ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অন্য মসলার দাম বাড়েনি। আগের মতোই এলাচির কেজি সাড়ে ৫০০ টাকা, লবঙ্গ দেড় হাজার টাকা, জিরা ৬৮০ টাকা ও দারুচিনি ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের শুরুতে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকায় ঠেকে। গতকালও সেই দামে বিক্রি হয়। আগের মতোই আদার কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
রমজানে চালের চাহিদা কম থাকায় আগের মতোই মিনিকেট ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে পোলাওর চাল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। খোলা এই চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ও বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চাল ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
তবে বাড়েনি চিনির দাম। তা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানে আগের মতোই বনফুল, প্রাণ, এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির ২০০ গ্রাম সেমাই ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ইদ ঘনিয়ে এলেও বিক্রি জমেনি। বোতলজাত তেল ১৯৫ টাকা লিটার বিক্রি হলেও সব দোকানে তা পাওয়া যায় না। অধিকাংশ দোকানে ৫ লিটারের তেল পাওয়া যায় না বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান।
আমাদের ঠিকানা নিউজ।
























