রাজধানীর শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিয়েছেন জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা। জনসাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় ত্যাগ করেন। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশি হামলা ও ‘ভারতীয় ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে জুলাই ঐক্যের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। এ সময় তাদের হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থানের পর তারা সরে যান।
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে তারা রাতভর সেখানে অবস্থান করেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরের পর একই দাবিতে যমুনার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেত্রী ফাতেম তাসনিম জুমা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবশেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এবং ডাকসু নেতাদের আহ্বানে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে। এরপর থেকে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
আমাদের ঠিকানা।