, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মন্ত্রী বা অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাংলাদেশকে ২৭৫ রানের টার্গেট দিল পাকিস্তান। রাঙামাটি বধির বিদ্যালয়ে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ। এলএনজি খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশকে ঝুঁকিতে ফেলবে: জিইএম। ইদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহীতে পুলিশের পদক্ষেব। রাঙামাটিকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী গড়তে ট্যুর গাইডদের ভেস্ট প্রদান করলেন হাবীব আজম। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের নির্দেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৪ মার্চ থেকে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু। ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। টিএসসিতে দুই নারীকে লাঞ্ছনায় ঢাবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার।

এলএনজি খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশকে ঝুঁকিতে ফেলবে: জিইএম।

  • প্রকাশের সময় : ৬ ঘন্টা আগে
  • ৪ পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দক্ষিণ এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো সম্প্রসারণ নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে গ্লোবাল এনার্জি মনিটর (জিইএম)। সংস্থাটির মতে, এতে বাংলাদেশসহ অঞ্চলের দেশগুলো বাড়তি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত জিইএমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের এশিয়া গ্যাস ট্র্যাকার অনুযায়ী বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রায় ১০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প প্রস্তাবিত বা নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের ইরানে হামলার পর জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করলে অঞ্চলটি মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জিইএমের হিসাবে, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের উন্নয়নাধীন এলএনজি আমদানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার পরিমাণ বছরে ১১০ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণেরও প্রায় ১৭ শতাংশ এই অঞ্চলে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৩৪ হাজার ১৪৬ কিলোমিটার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এমন এলএনজি আমদানি অবকাঠামো পরিকল্পনা করছে, যা বাস্তবায়িত হলে তাদের বর্তমান সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। অন্যদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

জিইএমের গ্লোবাল এলএনজি বিশ্লেষক রবার্ট রোজানস্কি বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো বৈশ্বিক মূল্য ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে। তার মতে, নতুন গ্যাস অবকাঠামো নির্মাণের ঝুঁকি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো দেশীয় বিকল্পগুলোই বেশি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, গত এক দশকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি সক্ষমতা চালু করেছে, তার দুই থেকে তিন গুণ বেশি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতার হার ইউরোপের অনুরূপ প্রকল্পগুলোর তুলনায়ও বেশি।

জিইএমের তেল-গ্যাস কর্মসূচির পরিচালক জুই জলি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এলএনজির দাম বাড়া ও সরবরাহ সংকুচিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য সতর্ক সংকেত। তার মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।

 

রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মন্ত্রী বা অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এলএনজি খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশকে ঝুঁকিতে ফেলবে: জিইএম।

প্রকাশের সময় : ৬ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দক্ষিণ এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো সম্প্রসারণ নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে গ্লোবাল এনার্জি মনিটর (জিইএম)। সংস্থাটির মতে, এতে বাংলাদেশসহ অঞ্চলের দেশগুলো বাড়তি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত জিইএমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের এশিয়া গ্যাস ট্র্যাকার অনুযায়ী বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রায় ১০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প প্রস্তাবিত বা নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের ইরানে হামলার পর জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করলে অঞ্চলটি মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জিইএমের হিসাবে, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের উন্নয়নাধীন এলএনজি আমদানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার পরিমাণ বছরে ১১০ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণেরও প্রায় ১৭ শতাংশ এই অঞ্চলে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৩৪ হাজার ১৪৬ কিলোমিটার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এমন এলএনজি আমদানি অবকাঠামো পরিকল্পনা করছে, যা বাস্তবায়িত হলে তাদের বর্তমান সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। অন্যদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

জিইএমের গ্লোবাল এলএনজি বিশ্লেষক রবার্ট রোজানস্কি বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো বৈশ্বিক মূল্য ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খেতে পারে। তার মতে, নতুন গ্যাস অবকাঠামো নির্মাণের ঝুঁকি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো দেশীয় বিকল্পগুলোই বেশি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, গত এক দশকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি সক্ষমতা চালু করেছে, তার দুই থেকে তিন গুণ বেশি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতার হার ইউরোপের অনুরূপ প্রকল্পগুলোর তুলনায়ও বেশি।

জিইএমের তেল-গ্যাস কর্মসূচির পরিচালক জুই জলি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এলএনজির দাম বাড়া ও সরবরাহ সংকুচিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য সতর্ক সংকেত। তার মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

আমাদের ঠিকানা নিউজ।